
অবশেষে বাড়ি ফিরছেন চার ভাই, তবে জীবিত নয়- নিথর দেহ হয়ে। বলছি ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সেই চার প্রবাসী ভাইয়ের কথা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এই নিহতদের লাশ। নিহতরা হলেন- রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ এবং মো. শহিদ।
জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হবে গ্রামের বাড়িতে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
এদিকে চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা এখনো তাদের বৃদ্ধা মাকে পুরোপুরি জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা শুধু জানিয়েছেন, ছেলেরা অসুস্থ।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৭২২ এ মঙ্গলবার ওমানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মাস্কাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। একই ফ্লাইটে নিহতদের স্বজন মোহাম্মদ ফজলুল হক দেশে ফিরবেন।
গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী জানান, মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে কাজগুলো শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় চার ভাইয়ের মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ কার্গো খরচ বহন করা হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের পক্ষ থেকে হাসপাতালের হিমঘর বিল, কাফনের কাপড়, গোসল ও দাফনের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ সরাসরি রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাবে।
নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনাম বলেন, পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার প্রস্তুতি চলছে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না থামছে না। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন, তবে এখনো অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে জানানো হয়নি যে তাঁর চার ছেলে আর বেঁচে নেই।
Leave a Reply