1. kayesahmedsalimbd@gmail.com : Kayes Ahmed Salim : Kayes Ahmed Salim
  2. nahin665@gmail.com : Nk :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

মমতার পনেরো বছরের দাপুটে শাসনের অবসান, এবার বিজেপির শাসন দেখবে পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লিতে

পনেরো বছরের দাপুটে শাসনের অবসান। মমতা ব্যানার্জি মানেই পশ্চিমবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ মানেই মমতা-এই সমীকরণ ভেঙে খানখান। ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান দিয়ে যে নেত্রী একদিন বাম দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন, আজ সেই একই ইতিহাস তাকেও গ্রাস করল। পার্থক্য শুধু একটাই-এবার তাকে সরিয়ে এলো গেরুয়া ঝড়। নবান্নে ফুটল পদ্মফুল। এই অবিশ্বাস্য পালাবদল এখন গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় চমক। যে নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে তৃণমূল নেত্রী হেরেছিলেন একবার, সেই স্মৃতির ক্ষত শুকানোর আগেই এবার উপড়ে গেল তার শেষ ঘাঁটি ভবানীপুরও। মমতার একসময়ের বিশ্বস্ত সহযোগী, এখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যেন প্রমাণ করে দিলেন, রাজনীতির মাঠে আজকের বন্ধুই কালকের সবচেয়ে বড় শত্রু। ‘দিদি’র অপরাজেয় ভাবমূর্তি আর তৃণমূল স্তরে শক্ত ভিত থাকা সত্ত্বে ব্যালটের এই নাটকীয় পতন শুধু তথাকথিত বাংলা নয়, পুরো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু একটি সরকারই বিদায় নিল না, বরং গঙ্গার ওপারে সমাপ্তি ঘটল এক অবিস্মরণীয় রাজনৈতিক অধ্যায়ের। আর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে এসে দাঁড়াল বিজেপির শাসন।

ফল স্পষ্ট হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় মমতা ব্যানার্জি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিজেপি ১০০টি আসন লুট করেছে।’ তার এই মন্তব্যে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত থাকলেও তিনি গণতান্ত্রিক রায়কে সরাসরি অস্বীকার করেননি; বরং তার বক্তব্যে পরাজয়ের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত-দুটোই ছিল।

অন্যদিকে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সেখানে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম অসংখ্য কর্মীর পরিশ্রম ও সংগ্রাম ছাড়া সম্ভব হতো না। আমি তাদের সবাইকে প্রণাম জানাই। বহু বছর তারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছেন এবং আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তারাই আমাদের দলের আসল শক্তি।

মোদি আরও বলেন, আজ ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব দিন। বিজেপির কর্মীরা কামাল করেছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। তিনি বলেন, বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এবার বদলা নয়, বদল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, বাংলার মানুষ বিপুল ভোটে বিজেপিকে জয়ী করেছে। আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি, বিজেপি মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবকিছু করবে। আমরা এমন এক সরকার দেব, যা সমাজের সব স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

এদিকে এক এক্স বার্তায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ বলেছেন, বাংলার মানুষ অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারীদের

এমন শিক্ষা দিয়েছে, যা তোষণের রাজনীতি করা দলগুলো কোনোদিন ভুলতে পারবে না। বাংলা যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছে, বিজেপি অবশ্যই তা পূরণ করবে।

ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬ আসন পেয়ে নিরষ্কুশ জয় লাভ করেছে বিজেপি। সেখানে সরকার গঠনে দরকার ১৪৭ আসন। রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-দুটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। এছাড়া সিপিএম ১টি, কংগ্রেস দুটি আসনে জয়ী হয়েছে অন্যরা পেয়েছে ৩টি। অর্থাৎ ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই একই রাজ্যে আরেকটি পালাবদলের সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গ। এই ফলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ধরা পড়ে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে। এখানেই ভোটগণনার একাধিক রাউন্ড শেষে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে যে, মমতা নিজের আসনেই পিছিয়ে পড়ছেন। ১৭ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তার পরাজয়। এই দৃশ্য শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং গোটা নির্বাচনের প্রতীকী ছবি হিসাবে সামনে আসে। যেখানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন আকস্মিক নয়, বরং দীর্ঘদিন জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কলকাতার বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, কয়েক বছরে জমে থাকা ক্ষোভ আজ ভোটবাক্সে বিস্ফোরিত হয়েছে। তার মতে, তৃণমূল সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছলেও তা দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করতে পারেনি। কারণ, ভোটার এখন ভাতার বাইরে স্থায়ী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা খুঁজছে।

অধ্যাপক সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেন, বাংলার ভোটে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবের প্রশ্ন এবার বড় হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক পরিচয় বা আঞ্চলিক গর্ব গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভোটার সরে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
© All rights reserved © 2025 Bashundhara TV
ওয়েবসাইট ডিজাইন : মো: নাহিন খান