
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত হোলি কোরআন মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকারের হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের একটি অনুলিপি। বিশাল এই পাণ্ডুলিপিটি আকার ও নান্দনিকতার দিক থেকে অনন্য হওয়ায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রদর্শিত কোরআন শরিফটির দৈর্ঘ্য ৩১২ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২২০ সেন্টিমিটার। এতে মোট ৭০০ পৃষ্ঠা রয়েছে। আকার ও উপস্থাপনার কারণে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআনের পাণ্ডুলিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি মূলত দশম হিজরি শতাব্দী বা ১৬০০ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক কোরআনের বর্ধিত অনুলিপি। মূল কপিটির মাপ ছিল ৪৫ বাই ৩০ সেন্টিমিটার। সেই কোরআনের বেশির ভাগ সুরা লেখা হয়েছিল থুলুথ লিপিতে, আর সুরা ফাতিহা লেখা হয়েছিল নাসখ লিপিতে। এতে সে সময়ের ক্যালিগ্রাফি শিল্পের সূক্ষ্মতা ও নান্দনিক বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই কোরআনটি আরবি ক্যালিগ্রাফি, স্বর্ণালংকরণ ও গ্রন্থ বাঁধাইয়ের এক অনন্য নিদর্শন। প্রথম পাতায় সূর্যাকৃতির অলংকরণ, সূচনা ও শিরোনাম পাতার নকশা এবং জটিল অলংকারে ফুটে উঠেছে ইসলামি শিল্পকলার উচ্চমাত্রার শৈল্পিক উৎকর্ষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূল কোরআনটি ১৩০০ হিজরি বা ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ওয়াকফ হিসেবে উৎসর্গ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই আসল পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত রয়েছে কিং আবদুলআজিজ কমপ্লেক্স ফর এন্ডাওমেন্ট লাইব্রেরিতে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, এই ঐতিহাসিক কোরআন মুসলমানদের কোরআনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাশাপাশি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ ইসলামি শিল্প ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে আছে।
Leave a Reply