
হাবিবুর রহমান (বাপ্পী): অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাঁতারকুলের পিচ্চি ফয়সাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন নিউজের মাধ্যমে অপপ্রচার, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বাড্ডা ও ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, নিজ দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপপ্রচার এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে নিয়মিত।
গণমাধ্যমকর্মীসহ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সাঁতারকুল ইউনিয়নের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সুমন নামে একজনকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথম অপপ্রচার চালানো হয়। গভীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। সেই অনুসন্ধানেই উঠে আসে একাধিক অডিও ক্লিপ, যেখানে কথিতভাবে মিথ্যাচার, হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং অপপ্রচারের নানা আলাপ রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, অডিও ক্লিপগুলো প্রকাশ না করতে এবং সেগুলো ডিলিট করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি বিএনপির গুলশান স্বদেশ কার্যালয়ে গিয়ে সিনিয়র নেতাদের কাছে কথিত “পিচ্চি ফয়সাল” নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, প্রথমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি “সমাধান” করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত “পিচ্চি ফয়সাল” সরাসরি গণমাধ্যমকর্মী, সাঁতারকুল ইউনিয়নের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সুমন এবং আদর্শনগরের ইকবাল মাহমুদকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন। পাশাপাশি বাড্ডা, ভাটারা ও বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি এবং হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমরা সাত ভাই সাতটা রামদা নিয়ে একসাথে বের হলে এলাকার তামা তামা হয়ে যাবে” এমন শীতল ও ভয়ংকর প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি গণমাধ্যমকর্মীদের।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নিজ এলাকার কর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তাদের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে “পিচ্চি ফয়সালকে” ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিনিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক হুমকি। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অডিও ক্লিপের ফরেনসিক যাচাই এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই অভিযুক্তকে অবিলম্বে রাজনৈতিক দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত “পিচ্চি ফয়সালের” বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বন্ধুত্বের পরিচয় ব্যবহার করে নীরব চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে তিনি বেপরোয়া প্রতিহিংসার রাজনীতির আড়ালে জমি বেচাকেনার নামে বৈধ–অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরাধ অনুসন্ধানী কর্মীদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে পৌঁছেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ, যা খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply