
ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট, স্টুডিও ভাঙার ঘটনা এবং দেশে কাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন জানিয়ে নিজের ক্ষতি, মানসিক চাপ ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আর স্টুডিও পরিচালনা কিংবা নতুন করে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এই কনটেন্ট নির্মাতা।
ফরিদুল আলম ফরিদ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে এসব কথা বলেন সালমান। ছবিটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। গত শনিবার ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি কোনো বার্তা আছে কি না, জানতে চাইলে সালমান বলেন, ‘সরকারকে কিছু বলার মতো কোনো সুযোগ এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তাই আমার মনে হয়, আমি কিছু বললেও তা শোনার মতো কোনো সুযোগ তৈরি হবে না।’
ব্যক্তিগত জীবন ও স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কেমন আছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন সালমান। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা খুবই করুণ একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একটা বড় বিপদ অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। আমার কষ্ট হয়েছে, ক্ষতিও হয়েছে—এটা সত্যি। কিন্তু এ নিয়ে আমি খুব একটা দুঃখী কি না, তাহলে বলব, একেবারেই না। আমি দুঃখ প্রকাশ করে বসে থাকতে পছন্দ করি না।’
কঠিন সময়েও সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি, জীবনে যদি ভালো কিছু চাই, তাহলে খারাপ কিছুর জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই খারাপ সময় যখন আসবে, সেটাকে অতিক্রম করতে হবে। এটা নিয়ে অভিযোগ করে বসে থাকলে তো হবে না।’
তাকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে শ্বশুরের নাম উঠে আসার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে সালমান বলেন, ‘ঘটনাটা যখন ঘটেই গেছে, তখন আমি যে গিয়ে জিজ্ঞাসা করব, কোথা থেকে কী হলো, সেই সুযোগটাও তো পাইনি। আমি তো বলেছি, আমি দোষী। তো যারা আমাকে দোষ দিচ্ছেন, তারা যদি সবাই মিলে আমাকে সামনে বসিয়ে একটু কথা বলতেন, তাহলে দোষটা স্বীকার করে বিষয়টা সমাধান করতে তো সমস্যা হতো না। কিন্তু তা না করে কেউ একটা কিছু বলে দিলেন, আপনারা সেটা ছড়িয়ে দিলেন, অথচ প্রমাণ করতে পারলেন না। শুধু একটা অভিযোগ করে দিলেন।’
এ ধরনের অভিযোগ একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি।
সালমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, নিজের মধ্যে এটা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আছে বলেই আমি পরিস্থিতিটা সামলাতে পারছি। কিন্তু অনেক মানুষ আছেন, যারা এটা সামলাতে পারেন না। তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়, সুনাম চলে যায়, কর্মজীবন শেষ হয়ে যায়। তারা তো আর আমার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তাদের জীবনটাই হয়তো আর স্বাভাবিকভাবে এগোয় না। এই মানুষগুলোর কাছে আমাদের সবার জবাবদিহি থাকা উচিত।’
বিষয়টি মোকাবিলায় দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কারও ক্ষতি করার চেয়েও বড় কথা হলো, আমরা বিষয়টা কীভাবে সামলাচ্ছি। খ্যাতি থাকবে, টাকা-পয়সা থাকবে, জনপ্রিয়তা থাকবে। কিন্তু এর সঙ্গে যখন নেতিবাচক কিছু আসে, সেটাও আমাদের মেনে নিতে হবে। এমন তো হতে পারে না যে আমি ভালো দিকটা নেব, কিন্তু খারাপ দিকটা নেব না।’
স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা এবং বাংলাদেশে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে সালমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘না, দেশে থাকার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। আগেও ছিল না। স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর আমি বলেছি, বাংলাদেশে আর স্টুডিওটা চালিয়ে যাব না। এটা আসলে আমার নিজের মতামত, আমার একটা বক্তব্য ছিল। আমি বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করব না।’
Leave a Reply