1. kayesahmedsalimbd@gmail.com : Kayes Ahmed Salim : Kayes Ahmed Salim
  2. nahin665@gmail.com : Nk :
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ শিমরাইল মোড়ে এমপির লোক পরিচয়ে ওয়েবিল দিয়ে পরিবহনে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ মালিক-শ্রমিকরা

মফস্বল প্রতিবেদক
  • প্রকাশ সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: লেগুনা প্রতি দৈনিক ১৩০ ও পুলিশের নামে মাসিক ১০০০ টাকা নিচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল মোড়ে “চালক দল“ নামে অবৈধ ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যনারে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ঢাকা-চট্ট্রগ্রাম মহাসড়কে প্রকাশ্যে শিমরাইল এক্সপ্রেসের লেগুনা পরবিহন থেকে ভুয়া মালিক সমিতির ওয়েবিল দিয়ে চাঁদা তুলছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র।

এ চক্রটির মূল হোতা হচ্ছে অবৈধ ভুঁইফোঁড় সংগঠন চালক দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় প্রদান কারি ” তাজুল ইসলাম সিকদার (সাজনু)” ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি পরিচয় প্রদান কারি “ওয়াসিম আকরাম “। এদের আবার রয়েছে একটি বিশাল বাহিনী।

তাই এদের বিরুদ্ধে ভয়ে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা মুখ খুলতে সাহস পায় না।
কারণ হিসেবে তারা বলছেন এ চক্রের হাত অনেক বড়। এরা এমপির লোক পরিচয়ে দাবড়িয়ে বেড়ায়। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নেয়না।থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আতংকে দিনাতিপাত করছেন।

তথ্যানুসারে, শিমরাইল এক্সপ্রেস ব্যানারে দেড় শতাধিক গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে প্রতিদিন ১২০টি গাড়ি চলাচল করে। সংঘবদ্ধ এ চাঁদাবাজ চক্রটি হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক প্রতিটা লেগুনা থেকে দৈনিক ১৩০ টাকা আদায় করে। যার ৩০ টাকা ওয়েবিল ও ১০০ টাকা জিপি হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া থানা ও হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারা বাবদ প্রতি গাড়ি থেকে ১০০০ টাকা আদায় করে থাকে। সব মিলিয়ে এ চক্রটি মাসে ৬ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, আমরা নিজেরা পরিবহন মালিক সমিতি করে আমরা আমাদের স্বার্থে সকল মালিকরা একত্রিত হয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবহন চালাতাম। এর প্রয়োজনীয় ব্যায় নিজেদের মধ্যে ধার্য করে পরিবহনের কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছি।

সম্প্রতি সাজনু ও ওয়াসিম নিজেরাই একটি মালিক সমিতি তৈরী করে তাদের এই অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ মালিক সমিতিতে বৈধ কোনো গাড়ির মালিক নেই। চাঁদাবাজ এ চক্রটির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

একদিকে জালানী সংকট অন্যদিকে চাঁদাবাজদের নির্মম অত্যাচারে অনেকে গাড়ি বাহিরে বের করতে সাহস পাচ্ছেনা। তাছাড়া গাড়ি চালিয়ে লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে। এরপর মরার উপড় গাড়া গাঁ হচ্ছে ওই চাঁদাবাজরা।

এদিকে “চালক দল“ নামে আমাদের কোন অঙ্গসংগঠন নাই বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ। তিনি বলেন, কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। আমরা এ ব্যপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করবো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই চক্রটি শুধু লেগুনা নয়, অটোরিকশা. পণ্যবাহী ট্রাক থেকেও চাঁদা আদায় করে থাকে।
সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তারা সাধারণ চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দৈনিক ও মাসিক ভিক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে তাদের মারধরসহ গাড়ি ভাঙ্গচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

শুধু চাঁদাবাজি নয়. রাতের অন্ধকারে নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের পেছনেও এই চক্রর সদস্যদর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাবে।

এদিকে এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১১ এপ্রিল শিমরাইল এক্সপ্রেস লিঃ এর এমডি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা হালকা পরিবহন মালিক সমিতির চিটাগাংরোড শাখার লেগুনা ও হিউম্যান হলার এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাসখানেক ধরে তাইজুল ইসলাম সিকাদার ওরফে সাজনু (৪৫), ওয়াশিম আকরাম (৩২), তরুন (২৬), জসিম (২৫) হাবিব (৩৮) শুভ (৩৬)সহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জন দুষ্কৃতিকারী চিটাগাংরোড ষ্ট্যান্ডে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অযৌক্তিক ভাবে চাঁদা দাবি করে আদায় করছে। তারা গাড়ির মালিক না হয়েও ভূয়া মালিক সমিতির কমিটি গঠন করে দৈনিন্দিন চাঁদার চার্ট প্রদান করে। পরিবহন মালিকরা এর বিরোধীতা করলে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে হুমকি ধামকি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে ষ্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় করছে। ১০ এপ্রিল মূল মালিকদের নিয়োজিত কর্মচারী লাইনম্যানকে চিটাগাংরোড থেকে তুলে নিয়ে সিআইখোলা সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাকুরি ছেড়ে দিতে ভয়ভীতি দেখায়। পরে মারধর করে তার সাথে থাকা বেতন খোড়াকির ১৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এদিকে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় লেগুনা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এছাড়াও মোহাম্মদ আলী নামে অপর এক মালিক এ চক্রের বিরুদ্ধে যাক্রবাড়ি থানায় অভিযোগ ধায়ের করেন। তিনি উল্লেখ করেন এ চাঁদাবাজ চক্রটি তার কাছে দৈনিক ১৩০ টাকা, সাপ্তাহিক ৫০০ টাকা ও মাসিক ১৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা বলছেন,এই ধরণের ভুঁই ভুঁইফোঁড় সংগঠনের জন্য বিএনপির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
দ্রুততম এই সব চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
© All rights reserved © 2025 Bashundhara TV
ওয়েবসাইট ডিজাইন : মো: নাহিন খান