
হাবিবুর রহমান (বাপ্পী): ভূমি অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব প্রস্তুত, আবেদন, শুনানি-সংক্রান্ত কার্যক্রম ও অনলাইন পেমেন্টসহ অর্পিত চলমান কাজ শতভাগ সম্পন্ন করে দেওয়ার পরও ব্যক্তিগত চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে এক ভেন্ডরের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, কাজ সম্পূর্ণভাবে বুঝে নেওয়ার পর পাওনা পরিশোধে নানা মিথ্যা অজুহাত, ছলচাতুরি ও অস্বীকারের আশ্রয় নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর। অথচ কাজ বুঝে নেওয়া, পারিশ্রমিকের প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তী কথোপকথনের অডিও রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কাজী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে যিনি তেজগাঁও ভূমি অফিসের ভেন্ডার পরিচয় কাজ করে এসেছেন দীর্ঘ বছর থেকে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তিগত লেনদেনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা কেন? প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগের সত্যতা ও প্রতারণার আইনগত উপাদান প্রমাণিত হলে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪১৫ ও ৪১৭ ধারায় প্রতারণার বিচার এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৪২০ ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত, অনুমোদন বা লাইসেন্স বাতিল এবং প্রযোজ্য প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তিনি যদি লাইসেন্সধারী দলিল লেখক হন, তাহলে দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪-এর ১২ বিধি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অসদাচরণের ভিত্তিতে জেলা রেজিস্ট্রার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাঁর সনদ বাতিল করতে পারেন।
কাজ সম্পন্নের প্রমাণ, ব্যক্তিগত লেনদেনের তথ্য, অডিও কথোপকথন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। কাজ আদায় করে দায় অস্বীকারের অভিযোগেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে-আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
Leave a Reply