1. kayesahmedsalimbd@gmail.com : Kayes Ahmed Salim : Kayes Ahmed Salim
  2. nahin665@gmail.com : Nk :
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

এই বিশ্বকাপে ৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল: আর্জেন্টিনা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য নাম

ক্রীড়া ডেস্ক
  • প্রকাশ সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
ফাইনালে ওঠার পর লি্ওনেল মেসিকে কাঁধে তুলে উদ্‌যাপন আর্জেন্টিনা দলের।ছবি- এএফপি

আটলান্টায় শেষ বাঁশি বাজার পর নতুন এক পাতার সংযোজন হলো রেকর্ড বইয়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে। আর্জেন্টিনার প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। সে হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে স্প্যানিশ ভাষার দুটি দলের মধ্যে দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে উরুগুয়ে–আর্জেন্টিনা ফাইনাল তালিকায় প্রথম।

ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করেছে সর্বশেষ ইউরোজয়ী স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া গতকাল রাতে নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে হজম করা গোলে আর্জেন্টিনাই পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচে। এরপর ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা (৯০+২) সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল

৫৫ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের মাঝে এই ৩১ মিনিটে ইংল্যান্ডের বলের দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে মাত্র ৯ বার বল ছুঁতে পেরেছে ইংল্যান্ড, যেটা তাদের প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৬৫ বার কম।

ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত নয়। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষেও এগিয়ে থেকে খেলোয়াড়দের রক্ষণভাগে নেমে এসে চাপ সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। পাশাপাশি বেঞ্চ থেকে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামানোই বলে দিচ্ছিল গোল বাঁচানোই ইংল্যান্ডের আসল লক্ষ্য।

ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা আর্জেন্টিনার দুই গোলদাতা লাওতারো মার্তিনেজ ও এনজো ফার্নান্দেজ
ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা আর্জেন্টিনার দুই গোলদাতা লাওতারো মার্তিনেজ ও এনজো ফার্নান্দেজএএফপি

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের বিপক্ষে চাপ সামলানো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি ইংল্যান্ডের পক্ষে। পাশাপাশি চাপে পড়ে শেষ দিকে দু–একটি গোল আদায় করে ম্যাচ বের করাটা তো এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘সিগনেচার মার্ক।’
দুটি গোলের উৎস লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোয় মূল ভূমিকা পালন করেন। ইংল্যান্ড রক্ষণভাগে পুরোপুরি গুটিয়ে থাকায় বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে কখনো ক্রস, কখনো বক্সে ঢুকে বেশ বিপজ্জনক কিছু পাস দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শুধু মেসি নয়, বদলি নামা রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসাটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

বক্সের বাইরে থেকে ফার্নান্দেজের শটটি ছিল দুর্দান্ত। সেটা সমতাসূচক গোল। এরপরই মেসির জাদুকরি মুহূর্ত—দুর্বল ডান পা দিয়ে দূরের পোস্টে নিখুঁত ক্রস দেন, যেখান থেকে জয়সূচক গোলটি করেন মার্তিনেজ। তখন যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় মিনিটের খেলা চলছিল। এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শেষ মুহূর্তে গোল নতুন না। ম্যাচে ৭৫ মিনিট পার করে চলতি টুর্নামেন্টে এটা ছিল আর্জেন্টিনার ১১ তম গোল।

ইংল্যান্ডের ভুল কী ছিল

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনায় আগেও পুড়েছে ইংল্যান্ড। তবে এবারের হার সম্ভবত অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

ফিরে তাকানো যায় ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেবার পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। তবে সেই ম্যাচে আন্ডারডগ বা ফেবারিট না হয়েও বেশির ভাগ সময় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছিল তারা, ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে এনেছিল সমতাও।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল
ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলএএফপি

২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সিংহভাগ সময় এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। যে টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে তেমন কোনো প্রত্যাশাই ছিল না, সেখানে ৬৭ মিনিটের পর ২ গোল হজম করে ছিটকে যেতে হয় তাদের।

আর আটলান্টায় গতকাল রাতে? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা এবং মাঠে স্পষ্টভাবেই শ্রেয়তর দল হিসেবে খেলার পরও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে হেরেছে ইংল্যান্ড।

আর্জেন্টিনার শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল সামলে ইংল্যান্ড কেবল এগিয়েই ছিল না, রক্ষণেও ছিল বেশ জমাট। এর বিপরীতে আর্জেন্টিনাকে দেখাচ্ছিল বড্ড সাধারণ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেকে’র পর ইংল্যান্ড কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে। এতে তারা আর্জেন্টিনাকে উল্টো আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়, আর আর্জেন্টিনা সুযোগটা লুফে নেয় একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি ঘুরে যায় আর্জেন্টিনার দিকে।

ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন
ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনএএফপি

হারের পর টুখেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল যে সমালোচিত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের কথায় তেমন ইঙ্গিতই মেলে। হারের পর বিবিসিকে কেইন বলেন, ‘ম্যাচের সিংহভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে আমরা শুধু লিডটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু এতটুকু দিয়ে পার পাওয়া যায় না। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ, এই পর্যায়ে আসতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি।’

কেইন আরও বলেন, ‘গোল করে তারা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়েছে, নাকি আমরাই তাদের ম্যান-মার্কিংয়ে টেক্কা দিতে পারিনি—সেটা জানি না। তবে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে আমরা কেবল লিড ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
© All rights reserved © 2025 Bashundhara TV
ওয়েবসাইট ডিজাইন : মো: নাহিন খান