1. kayesahmedsalimbd@gmail.com : Kayes Ahmed Salim : Kayes Ahmed Salim
  2. nahin665@gmail.com : Nk :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

পাটোয়ারী বাজারে জমি-ভবন বিক্রয়কে কেন্দ্র করে মালিকানার বিরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশ সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সম্পত্তি বায়না সূত্রের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব
‎চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাজারে। পাটোয়ারী বাজারে অবস্থিত একটি জমি ও ভবন বিক্রয়ের জন্য মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ একজন ক্রেতা খুঁজছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শরিফুল ইসলাম উক্ত জমি ও ভবন ক্রয়ের জন্য সম্মতি প্রদান করেন। উক্ত সম্পত্তিটি  ব্যাংকের কাছে বন্ধক (Bank Mortgage Property) হিসেবে রাখা ছিল।

যার কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে উনি পরামর্শ দেন আপনারা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়পক্ষ একত্র হয়ে সাক্ষী গনের উপস্থিতিতে একটা বায়না স্ট্যাম্প করেন। তারপরে দশ দিনের মধ্যে ব্যাংকের কার্যক্রম এবং লোণ সংক্রান্ত ঝামেলা শেষ হবে বলে ব্যাংক কর্মকর্তা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কে আশ্বস্ত করেন। এই কথার উপরে ভিত্তি করে  ব্যাংক ম্যানেজারের সামনে সাক্ষীদের  উপস্থিতিতে বায়না নামা চুক্তি হয়  ।

‎বায়নার সময় সম্পত্তিটি কবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে, এ বিষয়ে আলোচনা হলে বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান যে, তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে জমি ও ভবনটি ক্রেতা শরিফুল ইসলাম-এর নিকট বুঝিয়ে দেবেন। এছাড়া নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের একটি অংশ বায়না হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বাকি অর্থ সম্পত্তি সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় গ্রহণ করবেন বলে জানান।

‎বায়নার এক সপ্তাহ পর ক্রেতাপক্ষ বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মিজানুর রহমান বলেন যে তিনি কিছু সমস্যায় রয়েছেন তিনি যদি ১৫ দিন পরে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেন তাহলে ব্যাংক থেকে ওনার নাকি লোনের ১০ লাখ টাকা মওকুফের জন্য একটা দরখাস্ত দেওয়া আছে আর উনি মওকুফটি পেয়ে যাবেন। খুবই বিনয়ের  সাথে ক্রেতার কাছে উনি এই আর্জিটা জানান এবং ১৫ দিন পরে  সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে বুঝিয়ে দেবেন।

মানবিক দিক বিবেচনা করে শরিফুল ইসলাম ওনাকে এই সময়টুকু দিতে রাজি হন।  কিন্তু ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উনার সাথে যোগাযোগ করা হলে রেজিস্ট্রেশন দিয়েই দিচ্ছি ক্রেতাকে একের পর এক অজুহাতে  কয়েক মাস অতিক্রান্ত হয়ে যায়। পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ পিছিয়ে দিতে থাকেন এবং আরো সময় চান। ক্রেতাপক্ষ মানবিক কারণে তাঁকে অতিরিক্ত সময় দেন। এভাবে আরও কয়েক মাস অতিবাহিত হয়।

‎পরবর্তীতে মিজানুর রহমান-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ক্রেতাপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর অসহযোগিতামূলক আচরণ ও দুর্ব্যবহার শুরু হলে ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি বিক্রেতার পরিবারের সদস্য এবং বায়নার সময় উপস্থিত সাক্ষীদের অবহিত করেন। তখন তাঁরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন।

‎কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মিজানুর রহমান সকলকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং বায়নার টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উনার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতা ওনাকে খোঁজার চেষ্টা করা হলেও উনি পালিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
‎
‎এর কয়েক মাস পর  হঠাৎ একদিন মিজানুর রহমান শরিফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করে বলেন ভাই আমার ভুল হয়েছে আপনার সাথে কথা বলে জমি রেজিস্ট্রি করে দিব। এই কথার উপর ভিত্তি করে ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বাজার কমিটির সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় ক্রেতাপক্ষ শরিফুল ইসলাম-এর সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। ওই বৈঠকে তিনি সম্মতি জানিয়ে বলেন যে, আগস্ট মাসের ৩ বা ৪ তারিখের মধ্যে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করে বুঝিয়ে দেবেন।
‎
‎পরবর্তীতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য শরিফুল ইসলাম পুনরায় মিজানুর রহমান-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি উগ্র আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন এবং বলেন আমি সম্পত্তি দিবোনা দেখি আপনি কিভাবে পারেন সম্পত্তি বুঝে নিতে।

‎যেহেতু উনার সম্পত্তি টি ব্যাংকের কাছে মরগেজ দেওয়া ছিল তাই এই সম্পত্তি ক্রয় করার জন্য সম্পত্তির সম্পূর্ণ টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে হয়।  দীর্ঘ নয়মাস যাবত ব্যাংকে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় ক্রেতা শরিফুল ইসলাম মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে এবং এক রকম নিরুপায় হয়ে শরিফুল ইসলাম চাঁদপুর জেলা এসপি অফিসের মাধ্যমে ডিবিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত  ডিবির কর্মকর্তার পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান-কে যোগাযোগ করার জন্য বলা হলেও তিনি তাতে সাড়া দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে যে, মিজানুর রহমান (ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী- লীগর চেয়ারম্যান প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ) রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে একই উপায়ে বিভিন্ন ক্রেতার অর্থ আত্মসাৎ করেন। এলাকার অনেক লোক উনার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

‎‎ঘটনার দিন ১২ই অক্টোবর এই বিষয়টা শরিফুল ইসলামের বাড়ির পাশের দুই তিন জন লোক  মিজানুর রহমান-এর ছেলের দোকানে ক্রয় করার সময়  কৌতূহলবশত খোশ গল্পের ছলে ওনাকে জিজ্ঞেস করেন  যে আপনারা সম্পত্তিটি বুঝিয়ে দেন না কেন যেখানে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না কিন্তু এতে করে তাদের উপর উত্তেজিত হয়ে মারাত্মক হামলা করেন।

এই বিষয়টি শরিফুল ইসলাম জানতে পেরে তার কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান, তখন তাঁর ছেলে অত্যন্ত উগ্র আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে কয়েকজন লোক ডেকে এনে শরিফুল ইসলাম-এর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী হামলাকারীদের মধ্যে মোস্তফা, হাবিব, বাহার, মোরশেদসহ আরও অনেকে ছিলেন। ক্রেতাপক্ষের দাবি, মিজানুর রহমান নির্দেশে তাঁর ছেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা পরিচালনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
© All rights reserved © 2025 Bashundhara TV
ওয়েবসাইট ডিজাইন : মো: নাহিন খান