
নিজস্ব প্রতিবেদক: মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সোমবার থেকে নদীর ইসলামবাগ ও কামরাঙ্গীরচর-সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে নদীতীরের বর্তমান অবস্থা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের অবস্থান, নদীর তীরবর্তী এলাকায় দখলের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে নদীতীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিআইডব্লিউটিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৩৬৭৬/২০১০-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া আদেশে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে নদীতীরে বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দুই তীরে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নদীতীরে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা, ভরাট ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে দূষণ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নদীতীরের বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় দখলের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উচ্ছেদ ও বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের আওতাভুক্ত স্থাপনার সংখ্যা, উচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট পরিধি এবং বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নদীতীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ নদীতীরে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিং, নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং বর্জ্য নিক্ষেপ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুড়িগঙ্গা নদী ঢাকার নৌ-যোগাযোগ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি বর্জ্যের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পুনরায় দূষণের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বর্জ্য অপসারণের পর নদীতীরের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে যথাযথ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা বাস্তবায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ অক্টোবরের পরিদর্শনে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন (গ্রেড-২), বন্দর পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রধান, প্রধান প্রকৌশলী (পুরঃ) সাইদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির, যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুব জামিল, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশ্রাফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply