
মোঃ রাকিবুল ইসলাম খান: শরীয়তপুরের জাজিরায় চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক এমডি ইকবালের মালিকানাধীন ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ইকবালের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। একই কথা বলেছে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টে আগে অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই ফিডারে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় রেস্টুরেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যবসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পরবর্তীতে নতুন ফিডার থেকে সংযোগ নেওয়ার উদ্যোগ নেন রেস্টুরেন্টের মালিক এমডি ইকবাল।
ইকবাল জানান, এ বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করা হয়। আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেন। কোন ফিডারে পর্যাপ্ত লোড রয়েছে, নতুন লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন পথে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। পরে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় সেখান থেকে রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে এমডি ইকবাল বলেন, ‘রেস্টুরেন্ট নির্মাণের সময় অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যবসার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করি। তারা কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করে টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’
ইকবালের ভাষ্য, নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের পুরো ব্যয় তিনি গ্রাহক হিসেবে নিজেই বহন করেছেন। পাশাপাশি যে জায়গা দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন ইকবাল। তিনি বলেন, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ব্যবসা নিয়ে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ইকবাল বলেন, ‘স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় তারা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি চাঁদা না দিয়ে এখানে কীভাবে ব্যবসা করি, সেটিও তারা দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।’
এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্যও পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান জানান, টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় কারিগরি বিষয় পর্যালোচনা করেই সেখান থেকে রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন লাইন নির্মাণের ব্যয়ও গ্রাহক নিজেই বহন করেছেন।
নাজমুল হাসান বলেন, ‘এ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। কারিগরি সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ওই ফিডার থেকে আরও গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া সম্ভব। এতে টোলপ্লাজা বা অন্য কারও কোনো সমস্যা হবে না।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে অনুমতি নিয়েছে। এ জন্য এককালীন ভাড়ার শর্তও ছিল।
তিনি বলেন, ‘পুরো নিয়ম মেনেই সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও খুঁটি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজক মোঃ ইকবাল এর ইলিশ পোলাও রেস্টুরেন্ট। ছবি- সংগৃহীত
Leave a Reply