
ফরিদুল আলম ফরিদ: বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান এবার হাজির হয়েছেন একেবারেই ভিন্ন এক পরিচয়ে। অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ‘শিকারী’ শিরোনামের নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও প্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে নিজের নতুন এই অধ্যায় তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা।
গানটি প্রকাশের পর থেকেই এর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা ভিডিওতে একাধিক বিদেশি মডেলের সঙ্গে জায়েদ খানের পারফরম্যান্স দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
‘শিকারী’ মিউজিক ভিডিওতে জায়েদ খানের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন ইয়াসমিন, নিনা, মারিয়ানা, জুলিয়া, কারলা, কামিলা ও মিলানা। ভিডিওতে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে জায়েদ খানকে। গ্ল্যামারনির্ভর উপস্থাপনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আবহ তৈরির চেষ্টা রয়েছে পুরো মিউজিক ভিডিওজুড়ে।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সজীব ও সানজিদা রিমি। তাদের কণ্ঠের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিউজিক ভিডিওতে রাখা হয়েছে নাচ, পারফরম্যান্স এবং নান্দনিক লোকেশনের সমন্বয়। ফলে প্রচলিত বাংলা মিউজিক ভিডিওর তুলনায় ‘শিকারী’কে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে নির্মাণ:
‘শিকারী’র অন্যতম আকর্ষণ এর নির্মাণ লোকেশন। নির্মাতা বদরুদ্দৌজা সাগরের পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থানে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। বিদেশের আধুনিক নগরজীবন, খোলা প্রান্তর ও নান্দনিক পরিবেশকে ভিডিওর বিভিন্ন দৃশ্যে কাজে লাগানো হয়েছে।
শুধু লোকেশনেই নয়, নির্মাণের কারিগরি দিকেও আন্তর্জাতিক মানের আবহ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। মিউজিক ভিডিওটির নির্মাণকাজে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন পেশাদার টেকনিশিয়ান কাজ করেছেন। ক্যামেরা, লাইটিং, লোকেশন ব্যবস্থাপনা ও পোস্ট-প্রোডাকশনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিনয়ের বাইরে নতুন অভিজ্ঞতা:
জায়েদ খান দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত। তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্রে নয়, বরং একজন মিউজিক ভিডিও মডেল হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। এটিই তার ক্যারিয়ারে মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে প্রথম কাজ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
‘শিকারী’তে তাকে দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে গ্ল্যামারাস ও স্টাইলিশ লুকে। বিদেশি মডেলদের সঙ্গে তার পারফরম্যান্স এবং ভিডিওর আন্তর্জাতিক লোকেশন তাকে প্রচলিত চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোর বাইরে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন শিল্পীর জন্য নিজের পরিচিত কাজের ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। ‘শিকারী’ সেই দিক থেকে জায়েদ খানের ক্যারিয়ারে আলাদা একটি সংযোজন হয়ে থাকতে পারে।
গানে কী আছে?
সজীব ও সানজিদা রিমির কণ্ঠে তৈরি ‘শিকারী’ গানটির উপস্থাপনায় মূলত গ্ল্যামার, পারফরম্যান্স ও আধুনিক মিউজিক ভিডিওর ধাঁচকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গানটির দৃশ্যায়নে একাধিক বিদেশি মডেলের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের লোকেশন ভিডিওটিকে আন্তর্জাতিক আবহ দিয়েছে।
মিউজিক ভিডিওর বিভিন্ন দৃশ্যে জায়েদ খানকে কখনো এককভাবে, আবার কখনো বিদেশি মডেলদের সঙ্গে পারফর্ম করতে দেখা গেছে। পোশাক, সেটআপ, লোকেশন ও ক্যামেরার কাজ মিলিয়ে ভিডিওটিতে বড় পরিসরের আয়োজনের ছাপ রয়েছে।
নতুন চমক কতটা গ্রহণ করবেন দর্শক?
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জায়েদ খানকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই আলোচনায় থাকে। এবার তার নতুন পরিচয়- মিউজিক ভিডিওর মডেল। ফলে ‘শিকারী’ প্রকাশের পর দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
একদিকে বিদেশের লোকেশন, অন্যদিকে একাধিক বিদেশি মডেলের উপস্থিতি এবং জায়েদ খানের নতুন ধরনের পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে ‘শিকারী’কে তার ক্যারিয়ারের ব্যতিক্রমী একটি কাজ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রের পর্দায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি এবার মিউজিক ভিডিওতেও নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন জায়েদ খান। এখন দেখার বিষয়, ‘শিকারী’র এই নতুন অবতার দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং ভবিষ্যতে মিউজিক ভিডিওতে তাকে আরও নতুন কোনো আয়োজনে দেখা যায় কি না।
Leave a Reply