রাকিবুল ইসলাম খান: বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি এবং নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় এক বিশাল আনন্দ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান মামুনের নেতৃত্বে আয়োজিত এ মিছিলে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান মামুন বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "জনরোষের মুখে পালিয়ে যাওয়া খুনি হাসিনা সরকার আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিমজ্জিত হয়েছে। কিন্তু পালিয়ে গিয়ে পার পাবেন না; আমরা আপনার জন্য ফাঁসির দড়ি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছি।"
তিনি সরকারের ১৮০ দিনের শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘রি-অ্যাডমিশন ফি’ নামক টার্ম চিরতরে বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির পরিমাণ সরাসরি দ্বিগুণ করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’সহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। দেশের লাখ লাখ মেধাবী ফ্রিল্যান্সারের আন্তর্জাতিক লেনদেনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সরকারের উন্নয়ন ও কাজের দৃঢ়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, "তারেক রহমানের সরকার প্রমাণ করেছে, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আজ বাংলাদেশের জনপদে জনপদে সমস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে—'কথায় নয়, কাজে প্রমাণ, তিনিই তারেক রহমান'।"
ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে এবং গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারেক হাসান মামুন কঠোর ভাষায় বলেন: "আজ আমি এই উন্মুক্ত দুয়ারে দাঁড়িয়ে সকলকে বলে দিতে চাই, সকলকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন তারেক রহমান দেখছেন, সেই বাংলাদেশে গুপ্ত রাজনীতির ঠাঁই আর হবে না, হবে না, হবে না। রাতের আঁধারে মুখোশ পরে শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাইয়ের স্থান এই ক্যাম্পাসসহ বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে আর হবে না। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, শিবির আবারো তাদের সেই পুরোনো গুপ্ত রাজনীতি, অস্ত্রবাদের রাজনীতি, রগ কাটার রাজনীতি, অপসংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিতে চায়, শিবিরের এই অপপ্রয়াস ছাত্রদল দুমড়ে-মুচড়ে ছারখার করে দেবে।"
তিনি আরও যোগ করেন: "মেধা, যুক্তি ও সৃজনশীলতাই হবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মহত্তম মূলমন্ত্র। আর যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, যারা ধর্ষণের রাজনীতি করে, যারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করে, যারা ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে তাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে ইনশাআল্লাহ।"
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে নেতাকর্মীদের কণ্ঠে "করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" স্লোগানের মধ্য দিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।