আজ বাংলাদেশ বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর প্রতিবছর বার্ষিক অগ্রিম আয়কর (AIT) নির্ধারণের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানানো হচ্ছে।
লাইসেন্সধারী নাগরিকদের মতে, আগ্নেয়াস্ত্র একটি বিশেষায়িত লাইসেন্সপ্রাপ্ত উপকরণ, যা জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদিত। কিন্তু বার্ষিক কোনো আয় না থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়ন ফি-এর পাশাপাশি বার্ষিক AIT আরোপ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত নয়।
কৌশলগত প্রেক্ষাপট ও জাতীয় নিরাপত্তা: আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এই অযৌক্তিক করের বোঝা বহন করতে অক্ষম হয়ে অনেক বৈধ লাইসেন্সধারী তাদের অস্ত্র জমা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পেছনে আমরা একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি লক্ষ্য করছি| বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের কৌশলগত চাপে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের নিরস্ত্রীকরণের যে কূটকৌশল বাস্তবায়িত হয়েছিল, আমরা আশঙ্কা করছি, বর্তমান সরকারও কোনো তাবেদার গোষ্ঠীর দূরভিসন্ধিমূলক প্ররোচনায় সেই একই ফাঁদে পা দিচ্ছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মতো সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এবং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মোকাবিলায় যোগ্য নাগরিকদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সহজলভ্য ও উৎসাহিত করা হয়| অথচ বাংলাদেশে কৌশলে সাধারণ মানুষকে নিরস্ত্র করে দেশের আত্মরক্ষার ক্ষমতাকে দুর্বল করা হচ্ছে। বৈধ অস্ত্রধারীদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে মূলত অবৈধ অস্ত্রধারী ও দেশবিরোধী চক্রকে অবাধ সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বৈধ লাইসেন্সধারীরা রাষ্ট্রের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেন; তাদের নিরুৎসাহিত করা মানেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া।
বৈষম্যমূলক নীতিমালা: আমরা গভীর ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, রাষ্ট্রে বিদ্যমান আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালায় চরম বৈষম্য বিরাজ করছে। সরকারি কর্মকর্তা এবং আমলাগণের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়ন ফি অনেক ক্ষেত্রেই অবহতি বা বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত, যেখানে সাধারণ নাগরিকগণকে মোটা অংকের লাইসেন্স নবায়ন ফি, ভ্যাট এবং এআইটি প্রদান করতে হচ্ছে. একই রাষ্ট্রে বৈধ নাগরিকের ওপর এমন দ্বিমুখী আচরণ ও বৈষম্যমূলক কর কাঠামো সংবিধানের সমতা নীতির পরিপন্থী। আত্মরক্ষার অধিকার সবার সমান হওয়া সত্ত্বেও এভাবে শ্রেণিভেদে কর ও ফি নির্ধারণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
আমাদের দাবিসমূহ: ১. অবিলম্বে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীদের ওপর আরোপিত বার্ষিক অযৌক্তিক AIT বাতিল করতে হবে। ২. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত ও পাকিস্তান সহ বিশ্বের অন্যান্য সভ্য দেশের আগ্নেয়াস্ত্র আইন অনুসরণ করে যোগ্য নাগরিকদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজলভ্য ও প্রক্রিয়া শিথিল করতে হবে। ৩. তাবেদার গোষ্ঠীর প্ররোচনায় দেশের সাধারণ নাগরিককে নিরস্ত্র করার সকল হীন চক্রান্ত ও নীতিমালা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ৪. করের বোঝা নয়, বরং লাইসেন্সধারীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি বাস্তবসম্মত ও আধুনিক নিরাপত্তা-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ৫. সরকারি আমলা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নবায়ন ফি ও কর ব্যবস্থা অবিলম্বে বিলোপ করতে হবে।
আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাই, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।